WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now

মোটরসাইকেল সার্ভিসিং খরচ

মোটরসাইকেল সার্ভিসিং খরচ: মোটরসাইকেল কেনার পরেই কিন্তু বিভিন্ন ধরনের সার্ভিসিং করার দরকার হতে পারে। আবার মোটরসাইকেল কিছুদিন পুরানো হলে অথবা কিছু মাস পরপর মোটরসাইকেলে নরমাল সার্ভিসিং কিংবা মাস্টার সার্ভিসিং করার প্রয়োজন হয়। সে ক্ষেত্রে নতুন একজন রাইডার কখনোই মোটরসাইকেল সার্ভিসিং খরচ সম্পর্কে আইডিয়া রাখতে পারেনা। তাই অবশ্যই আমাদের আজকের আর্টিকেলটি শেষ পর্যন্ত পড়ে মোটরসাইকেল সার্ভিসিং খরচ কত সেই সম্পর্কে জেনে নিন।

মোটরসাইকেল সার্ভিসিং খরচ

মোটরসাইকেল সার্ভিসিং খরচ শুরু হতে পারে ১০০ টাকা থেকেই। তবে ক্ষেত্রবিশেষে তা ৭০০ টাকা অবধি হতে পারে। আর কারণ হলো মাস্টার সার্ভিসিং, নরমাল সার্ভিসিং ইত্যাদি বিভিন্ন আলাদা আলাদা ধরণের সার্ভিসিং রয়েছে। বর্তমান সময়ে নরমাল সার্ভিসিং করতে মোটামুটি ১০০ টাকায় প্রয়োজন হতে পারে। তবে যদি আপনি মোটরসাইকেল একদম মাস্টার সার্ভিসিং করতে চান সেক্ষেত্রে ৭০০ টাকা প্রয়োজন হবে। কিন্তু যদি ক্ষেত্র বিশেষে আপনার মোটরসাইকেলের যে কোন পার্টস এর কোন ধরনের সমস্যা কিংবা ত্রুটি থাকে এবং সেটি বদলানোর প্রয়োজন হয় সে ক্ষেত্রে আপনার খরচ বাড়তে পারে।

Read Also:

মোটরসাইকেল সার্ভিসিং কি

মোটরসাইকেল বর্তমানে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য বাহনের একটি। এটি দ্রুতগামী, স্বল্প খরচে চলনক্ষম এবং সহজলভ্য হওয়ায় বহুল ব্যবহৃত হয়। তবে, মোটরসাইকেলের দীর্ঘস্থায়ী পারফরম্যান্স নিশ্চিত করতে নিয়মিত সার্ভিসিং করা অত্যন্ত জরুরি। মোটরসাইকেল সার্ভিসিং মানে হলো এর বিভিন্ন যন্ত্রাংশ পরীক্ষা, রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় মেরামত করা, যাতে এটি সর্বোচ্চ কার্যকারিতা বজায় রাখতে পারে।

মোটরসাইকেল সার্ভিসিং কেন প্রয়োজন?

১. ইঞ্জিনের দীর্ঘস্থায়ী কার্যকারিতা নিশ্চিত করা
মোটরসাইকেলের ইঞ্জিন তার মূল চালিকাশক্তি। নিয়মিত সার্ভিসিং না হলে ইঞ্জিনে ধুলাবালি জমে কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয় এবং জ্বালানি খরচ বাড়িয়ে দেয়।

  1. জ্বালানির সাশ্রয় করা
    নিয়মিত পরিষ্কার ও তেল পরিবর্তন করলে জ্বালানির অপচয় কম হয়, ফলে কম খরচে দীর্ঘ পথ ভ্রমণ করা যায়।
  2. নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা
    ব্রেক, ক্লাচ, লাইট, টায়ার এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অংশ নিয়মিত পরীক্ষা করা প্রয়োজন। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি হ্রাস পায় এবং চালকের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।
  3. মোটরসাইকেলের দীর্ঘস্থায়িত্ব বৃদ্ধি করা
    সার্ভিসিং করলে মোটরসাইকেলের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ভালো অবস্থায় থাকে, ফলে এটি দীর্ঘদিন ব্যবহার করা যায়।
  4. ভাল পারফরম্যান্স বজায় রাখা
    একটি সুপরিচালিত এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা মোটরসাইকেল চালালে আরামদায়ক অনুভূতি পাওয়া যায়।

মোটরসাইকেলের সার্ভিসিং কত প্রকার?

সাধারণত, মোটরসাইকেলের সার্ভিসিং দুই ধরনের হয়ে থাকে।

  1. নিয়মিত বা সাধারণ সার্ভিসিং
    • ইঞ্জিন অয়েল পরিবর্তন
    • ব্রেক এবং ক্লাচ পরীক্ষা
    • টায়ারের অবস্থা দেখা
    • লাইট ও হেডলাইট চেক করা
    • এয়ার ফিল্টার পরিষ্কার করা
  2. সম্পূর্ণ বা ফুল সার্ভিসিং
    • ইঞ্জিন সম্পূর্ণভাবে পরীক্ষা করা
    • চেইন ও স্প্রোকেট পরিবর্তন করা
    • ইঞ্জিন টিউনিং করা
    • কার্বুরেটর পরিষ্কার করা
    • সম্পূর্ণ ইলেকট্রিক সিস্টেম চেক করা

কখন মোটরসাইকেলের সার্ভিসিং করা উচিত?

অনেকেই মনে করেন, সমস্যা না হলে সার্ভিসিংয়ের প্রয়োজন নেই। তবে এটি ভুল ধারণা। নতুন মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে প্রথম ১,০০০ কিলোমিটার চালানোর পর প্রথম সার্ভিসিং করা উচিত। এরপর প্রতি ২,০০০-৩,০০০ কিলোমিটার চালানোর পর নিয়মিত সার্ভিসিং করানো প্রয়োজন।

মোটরসাইকেল সার্ভিসিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ

১. ইঞ্জিন অয়েল পরিবর্তন
ইঞ্জিন অয়েল পরিবর্তন না করলে ইঞ্জিনের কার্যক্ষমতা কমে যায় এবং অতিরিক্ত গরম হয়ে যায়।

২. ব্রেক চেক করা
নিয়মিত ব্রেক প্যাড পরীক্ষা করা দরকার, কারণ দুর্বল ব্রেক দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।

৩. টায়ার ও বাতাসের চাপ পরীক্ষা করা
টায়ারের গ্রিপ ঠিক আছে কিনা, তা নিশ্চিত করা জরুরি।

৪. চেইন পরিষ্কার ও তেল দেওয়া
চেইন শুকিয়ে গেলে শব্দ হয় এবং ঘর্ষণের কারণে নষ্ট হতে পারে।

৫. ব্যাটারি ও ইলেকট্রিক অংশ পরীক্ষা করা
মোটরসাইকেলের লাইট, হর্ন এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক অংশ নিয়মিত পরীক্ষা করা উচিত।

সার্ভিসিংয়ের সঠিক স্থান নির্বাচন

সঠিক সার্ভিসিং সেন্টার বেছে নেওয়া খুব গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় অযোগ্য মেকানিকের কাছে না গিয়ে নির্ভরযোগ্য ও অভিজ্ঞ সার্ভিসিং সেন্টারে যাওয়া উচিত।

আমাদের শেষ কথা

আশা করি আমাদের আজকের আর্টিকেলটি পড়ে মোটরসাইকেল সার্ভিসিং খরচ কত সেই সম্পর্কে আইডিয়া পেয়ে গেছেন। নতুন গাড়িটি ফেলে না রেখে সঠিকভাবে সার্ভিসিং করে মেরামত করে নিন যাতে করে চালানোর যোগ্য হয়ে ওঠে।

Leave a Comment