WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now

অনলাইনে ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়ন করার নিয়ম

অনলাইনে ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়ন করার নিয়ম: আপনার ড্রাইভিং লাইসেন্স কি কি রিনিউ করার দরকার আছে? আপনার ড্রাইভিং লাইসেন্সের ম্যাথ ফুরিয়ে গেছে? তাহলে আজকের আর্টিকেলটি আপনার জন্য। কারণ আমাদের আজকের আর্টিকেলটিতে আমরা আলোচনা করব অনলাইনে ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়ন করার নিয়ম সম্পর্কে। তাই আপনার ড্রাইভিং লাইসেন্সটি মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেলে সহজে অনলাইনের মাধ্যমে কিভাবে নবায়ন করতে পারেন সে বিষয়টি জানতে সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন।

Read Also:

অনলাইনে ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়ন করার নিয়ম

প্রথমে গুগলে গিয়ে “বিআরটিএ সার্ভিস পোর্টাল” লিখে সার্চ দিন। সার্চ রেজাল্ট থেকে বিআরটিএ সার্ভিস পোর্টাল লিঙ্কে ক্লিক করুন। পোর্টালে প্রবেশ করলে দুটি অপশন দেখতে পাবেন – “প্রবেশ করুন”“নিবন্ধন করুন”

  • যদি ইতিমধ্যে আপনার অ্যাকাউন্ট থাকে, তাহলে ইউজার আইডি (মোবাইল নম্বর) ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করুন।
  • নতুন ব্যবহারকারীদের “নিবন্ধন করুন” অপশনে গিয়ে অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হবে।

প্রোফাইল হালনাগাদ

পোর্টালে লগইন করার পর প্রথমেই প্রোফাইল হালনাগাদ করতে হবে। এতে আপনাকে নিম্নলিখিত তথ্য সংযুক্ত করতে হবে:

✅ আপনার ছবি আপলোড করুন।
✅ পিতার ও মাতার নাম ইংরেজিতে টাইপ করুন।
✅ ব্লাড গ্রুপ সংযুক্ত করুন (যদি আগে দেওয়া না থাকে)।

এটি সম্পন্ন হলে বিআরটিএ পোর্টালের সব সেবা ব্যবহার করতে পারবেন।

ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নের প্রক্রিয়া

প্রোফাইল হালনাগাদ করার পর বাম পাশে “ড্রাইভিং লাইসেন্স” অপশনে ক্লিক করুন। সেখানে বিভিন্ন অপশন থাকবে, তবে “অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়ন” অপশনটি নির্বাচন করতে হবে।

এখানে আপনার পূর্বের ড্রাইভিং লাইসেন্সের উল্টো পাশে থাকা রেফারেন্স নম্বরটি প্রবেশ করিয়ে “অনুসন্ধান” অপশনে ক্লিক করুন। এরপর লাইসেন্স নবায়নের জন্য অনলাইন ফরমটি খুলে যাবে, যা দুইটি ভাগে বিভক্ত থাকবে – সেকশন-এসেকশন-বি

সেকশন-এ: তথ্য যাচাই ও সংশোধন

✅ এখানে আপনার পূর্ববর্তী লাইসেন্স নম্বর ও অন্যান্য তথ্য প্রদর্শিত হবে।
✅ অতিরিক্ত কিছু তথ্য পূরণ করতে হবে, যেমন পেশা, শিক্ষাগত যোগ্যতা ইত্যাদি।

দ্রষ্টব্য:
✅ ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য নূন্যতম শিক্ষাগত যোগ্যতা জেএসসি/অষ্টম শ্রেণি পাশ হতে হয়।
✅ পূর্বের শিক্ষাগত যোগ্যতা যদি পরিবর্তন হয়ে থাকে, তবে তা সংশোধন করতে হবে।

সেকশন-বি: ডকুমেন্ট আপলোড

ভোটার আইডি কার্ডের কপি (উভয় পাশ)।
ড্রাইভিং লাইসেন্সের স্ক্যান কপি (উভয় পাশ, সর্বোচ্চ ফাইল সাইজ ৬০০ কেবি)।
স্মার্টকার্ড ডাকযোগে পাওয়ার ঠিকানা সংযুক্ত করতে হবে।

ঠিকানার ক্ষেত্রে:
বর্তমান ঠিকানা বা স্থায়ী ঠিকানা নির্বাচন করতে হবে।
যদি অন্য ঠিকানায় ডেলিভারি নিতে চান, তাহলে “Others” অপশন থেকে নতুন ঠিকানা যোগ করুন।

এরপর “সংরক্ষণ” অপশনে ক্লিক করলে লাইসেন্স নবায়নের আবেদন সফলভাবে সম্পন্ন হবে

অনলাইন ফি পরিশোধ

✅ আবেদন সম্পন্ন হওয়ার পর “অনলাইন ফি জমা” অপশনে ক্লিক করুন।
✅ ফি পরিশোধের জন্য বিকাশ, নগদ, রকেট, ব্যাংক ডেবিট/ক্রেডিট কার্ড, ভিসা বা মাস্টার কার্ড ব্যবহার করা যাবে।

অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়ন ফি:

ফি বিবরণপরিমাণ (টাকা)
মূল ফি৩০০০
কার্ড ফি৬১০
ভ্যাট৫৪২
ডেলিভারি ফি৬০
মোট ফি৪২১২

জরিমানা:

  • মেয়াদ উত্তীর্ণ হলে অতিরিক্ত ৫১৮/- টাকা জরিমানা দিতে হবে (০১ দিন থেকে ১ বছরের মধ্যে)।
  • জরিমানার পরিমাণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে যোগ হয়ে যাবে।

✅ পেমেন্ট সম্পন্ন হলে “মানি রিসিপ্ট” ডাউনলোড করুন।

ই-ড্রাইভিং লাইসেন্স ও স্মার্টকার্ড সংগ্রহ

✅ পেমেন্টের ৩-৭ দিনের মধ্যে আপনাকে ই-পেপার ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়া হবে।
✅ এটি আপনার বিএসপি পোর্টাল থেকে ডাউনলোড করা যাবে।
✅ ই-লাইসেন্স ব্যবহার করেই আপনি গাড়ি চালাতে পারবেন।

স্মার্টকার্ড সরবরাহ:
✅ ১-২ মাসের মধ্যে বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ আপনার ঠিকানায় স্মার্টকার্ড পাঠিয়ে দেবে

আমাদের শেষ কথা

আশা করি আমাদের আজকের আর্টিকেলটি পড়ার পরে অনলাইনে ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়ন করার নিয়ম সম্পর্কিত সকল তথ্যগুলো সঠিকভাবে জানতে পেরেছেন। যদি আপনি নবায়ন করতে ব্যর্থ হন কিংবা যে কোন জায়গাতে এগিয়ে আটকে যান সে ক্ষেত্রে কমেন্ট করবেন আমরা অবশ্যই আপনাকে সহযোগিতা করবো। তবে আপনি যদি আপনার বন্ধুকে আর্টিকেলটি শেয়ার করেন তাহলে সেও এই বিষয়টি জেনে নিতে পারবে আর সে নিজেও উপকৃত হতে পারবে। তাই অবশ্যই আপনার পরিচিত সকল বন্ধু-বান্ধবের নিকটে আর্টিকেলটি শেয়ার করে তাদের কেউ ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়ন করার নিয়ম সম্পর্কে জানিয়ে দিন।

Leave a Comment