অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স করার নিয়ম: বর্তমান সময় ড্রাইভিং লাইসেন্স ব্যতীত আপনি রাস্তায় গাড়ি চালালে বিভিন্ন ঝামেলার মধ্যে আপনাকে পড়তে হতে পারে। আসুন আমাদের আজকের আর্টিকেলটি শুনেও তাই জেনে নিন অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স করার সঠিক নিয়ম সম্পর্কে। সঠিক নিয়ম মেনে আবেদন করলে খুব সহজেই অবশষণাগার ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে পারবেন। তাহলে দেরি কিসের সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি শেষ করলে আপনিও একজন অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রাপ্ত মানুষ হয়ে যাবেন।
Read Also:
- বাইকের মবিলের দাম কত ২০২৫
- বাইকের ফগ লাইটের দাম ২০২৫
- বাইকের ব্রেক শক্তিশালী করার উপায়?
- বাইকের সবচেয়ে নিরাপদ ব্রেক কোনটি?
- মোটর সাইকেল ড্রাইভিং লাইসেন্স ফি
- বাইকের সামনের ব্রেক কখন ব্যবহার করতে হয়?
- বাইকের ব্রেক ধরার নিয়ম
- মোটরসাইকেল এর সিসি কি
- মোটরসাইকেলের তেল খরচ কমানোর উপায়
- অনলাইনে ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়ন করার নিয়ম
- বাইকের জন্য কোন তেল ভালো
- বাইকের তেল বাঁচানোর সহজ উপায়
- মোটরসাইকেল সার্ভিসিং খরচ
অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স করার নিয়ম
ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নের জন্য প্রথমেই বিআরটিএ সেবা বাতায়ন (BSP)-এ আপনার একটি অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে। যদি আপনার অ্যাকাউন্ট না থাকে, তাহলে নতুন করে নিবন্ধন করতে হবে। কিভাবে বিআরটিএ সার্ভিস পোর্টালে অ্যাকাউন্ট তৈরি ও হালনাগাদ করবেন তা জানতে ক্লিক করুন: বিআরটিএ সার্ভিস পোর্টালে নিবন্ধন করার প্রক্রিয়া।
পোর্টালে প্রবেশ ও প্রোফাইল হালনাগাদ
নিবন্ধন সম্পন্ন হলে, আপনার মোবাইল নম্বর ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে বিআরটিএ সার্ভিস পোর্টালে লগইন করতে হবে। লগইন করার পর প্রোফাইল হালনাগাদ নিশ্চিত করতে হবে।
লাইসেন্স নবায়নের জন্য আবেদন
প্রোফাইল হালনাগাদের পর ড্রাইভিং লাইসেন্স অপশনে ক্লিক করতে হবে। এখানে বিভিন্ন অপশন থাকবে, তবে অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়ন অপশনটি নির্বাচন করতে হবে। এরপর ড্রাইভিং লাইসেন্সের রেফারেন্স নম্বর প্রদান করে অনুসন্ধান অপশনে ক্লিক করুন।
এরপর নবায়নের জন্য অনলাইন ফরম আসবে, যা দুটি অংশে বিভক্ত:
সেকশন-এ: প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান
এই অংশে আপনার ড্রাইভিং লাইসেন্স নম্বরসহ অন্যান্য তথ্য প্রদর্শিত হবে। তবে কিছু তথ্য নতুন করে দিতে হবে, যেমন:
- পেশা
- শিক্ষাগত যোগ্যতা
যদি আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা পরিবর্তন হয়ে থাকে, তাহলে সেটি আপডেট করতে হবে। অন্যথায় আগের তথ্য সংরক্ষিত থাকবে।
সেকশন-বি: প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট আপলোড
এই অংশে নিম্নলিখিত ডকুমেন্ট স্ক্যান করে আপলোড করতে হবে (সর্বোচ্চ ফাইল সাইজ ৬০০ কেবি):
- ভোটার আইডি কার্ড (দুই পাশের স্ক্যান কপি)
- বর্তমান ড্রাইভিং লাইসেন্স (দুই পাশের স্ক্যান কপি)
এরপর স্মার্ট কার্ড ডাকযোগে প্রাপ্তির ঠিকানা পূরণ করতে হবে। ঠিকানা দেওয়ার সময় নিম্নলিখিত তথ্য প্রদান করতে হবে:
- হোল্ডিং নম্বর
- গ্রাম/মহল্লা
- মোবাইল নম্বর
- থানা
- জেলা
- পোস্ট কোড
যদি ভিন্ন ঠিকানায় কার্ড পেতে চান, তবে Others (অন্যান্য) অপশনে ক্লিক করে সংশ্লিষ্ট তথ্য দিন।
অনলাইন ফি পরিশোধ
তথ্য সংরক্ষণের পর অনলাইন ফি পরিশোধ করতে হবে। মোবাইল ব্যাংকিং (বিকাশ, নগদ, রকেট), ব্যাংক কার্ড (ডেবিট/ক্রেডিট, ভিসা, মাস্টারকার্ড) ইত্যাদির মাধ্যমে ফি জমা দেওয়া যাবে।
অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নের ফি:
ফি বিবরণ | পরিমাণ (টাকা) |
---|---|
মূল ফি | ৩০০০ |
কার্ড ফি | ৬১০ |
ভ্যাট | ৫৪২ |
ডেলিভারি ফি | ৬০ |
মোট | ৪২১২ |
যদি লাইসেন্সের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যায়, তবে ০১ দিন থেকে ০১ বছর পর্যন্ত বিলম্ব ফি ৫১৮ টাকা যুক্ত হবে। অর্থাৎ, লাইসেন্স নবায়নের সময় বিলম্ব ফি স্বয়ংক্রিয়ভাবে যোগ হবে।
নবায়ন পরবর্তী কার্যক্রম
ফি পরিশোধ সফলভাবে সম্পন্ন হলে, ৩-৭ দিনের মধ্যে ই-পেপার ড্রাইভিং লাইসেন্স আপনার বিআরটিএ সার্ভিস পোর্টাল থেকে ডাউনলোড করা যাবে।
স্মার্ট কার্ড হাতে পাওয়ার আগ পর্যন্ত এই ই-পেপার লাইসেন্স ব্যবহার করে গাড়ি চালানো যাবে। সাধারণত, বিআরটিএ ১-২ মাসের মধ্যে স্মার্ট কার্ড প্রস্তুত করে ডাকযোগে প্রেরণ করে।
আমাদের শেষ কথা
আশা করি আমাদের আজকের আর্টিকেলটি পড়ার পরে আপনি অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স করার নিয়ম সম্পর্কে সকল তথ্য জানতে পেরেছেন। যদি আবেদন করতে কোন প্রকারের সমস্যা হয়ে থাকে তাহলে অবশ্যই কমেন্ট করতে পারেন। আর নিয়মিত মোটরসাইকেল বা বাইক রিলেটেড যে কোন ধরনের সঠিক ইনফরমেশন পেতে আমাদের ওয়েবসাইটটি ভিজিট করুন।