নতুন বাইকের ব্রেক-ইন পিরিয়ড: নতুন বাইক কেনার আনন্দ সত্যিই আলাদা। কিন্তু অনেকেই জানেন না যে বাইক কেনার পর প্রথম কিছুদিন বিশেষ যত্ন নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। এই সময়টাকেই বলা হয় Break-in Period বা রানিং-ইন পিরিয়ড। ব্রেক-ইন পিরিয়ড হলো এমন একটি সময় যখন ইঞ্জিনের ভেতরের নতুন যন্ত্রাংশ ধীরে ধীরে একে অপরের সাথে মানিয়ে নেয়। এই সময় সঠিকভাবে বাইক চালানো না হলে ভবিষ্যতে ইঞ্জিন পারফরম্যান্স কমে যেতে পারে, ফুয়েল খরচ বাড়তে পারে কিংবা ইঞ্জিনের ক্ষতি হতে পারে।
এই গাইডে আমরা জানবো —
✔️ ব্রেক-ইন পিরিয়ড কতদিন
✔️ কত RPM এ চালাবেন
✔️ কি কি করা যাবে না
✔️ কখন প্রথম সার্ভিস করাবেন
Read Also:
- পালসার বাইক দাম কত ২০২৬
- হোন্ডা এক্স ব্লেড এর দাম কত ২০২৬
- হিরো হোন্ডা ১০০ সিসি দাম কত ২০২৬
- হোন্ডা হরনেট ২.০ প্রাইস ইন বাংলাদেশ ২০২৬
- রানার টার্বো ১২৫ সিসি দাম কত
- কেটিএম আরসি 390 দাম কত
- হোন্ডা এসপি ১২৫ দাম কত
- ইয়ামাহা আর ওয়ান ফাইভ ভার্সন 4 এর দাম কত
- হিরো এক্সট্রিম ১২৫ আর দাম কত ২০২৬
- ইয়ামাহা এক্সএসআর ১৫৫ দাম কত
ব্রেক-ইন পিরিয়ড কতদিন?
সাধারণত নতুন বাইকের ব্রেক-ইন পিরিয়ড থাকে:
👉 প্রথম ৮০০–১০০০ কিলোমিটার
বা
👉 প্রথম ১–২ মাস
তবে সঠিক তথ্যের জন্য আপনার বাইকের ইউজার ম্যানুয়াল অবশ্যই দেখে নেওয়া উচিত।
ব্রেক-ইন সময় কত RPM রাখা উচিত?
প্রথম ৫০০–১০০০ কিলোমিটারে উচ্চ RPM এ বাইক চালানো উচিত নয়।
সাধারণ নির্দেশনা:
- ৪০–৫০ কিমি/ঘন্টা গতির মধ্যে রাখুন
- হঠাৎ ফুল থ্রটল দেবেন না
- দীর্ঘ সময় একই গতিতে চালাবেন না
- লো RPM ও মিড RPM এ গিয়ার পরিবর্তন করুন
অত্যধিক RPM ইঞ্জিনের উপর চাপ সৃষ্টি করে যা নতুন ইঞ্জিনের জন্য ক্ষতিকর।
ব্রেক-ইন পিরিয়ডে যেসব কাজ করবেন না
❌ ফুল স্পিডে চালানো
❌ দীর্ঘ সময় টপ গিয়ারে হাই স্পিডে থাকা
❌ ওভারলোড নেওয়া (অতিরিক্ত ওজন)
❌ হঠাৎ ব্রেক ও হঠাৎ অ্যাক্সিলারেশন
এই সময় ইঞ্জিনকে ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হতে দিন।
ব্রেক-ইন সময় যেসব বিষয় খেয়াল রাখবেন
নিয়মিত ইঞ্জিন অয়েল চেক করুন
নতুন ইঞ্জিনে প্রথম দিকে ধাতব কণা তৈরি হতে পারে। তাই প্রথম সার্ভিসে অয়েল পরিবর্তন খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
সঠিক সময়ে প্রথম সার্ভিস করুন
সাধারণত ৫০০–১০০০ কিমির মধ্যে প্রথম সার্ভিস করতে হয়।
টায়ার প্রেসার ঠিক রাখুন
ভুল টায়ার প্রেসার ইঞ্জিন ও সাসপেনশনের উপর অতিরিক্ত চাপ ফেলে।
চেইন অ্যাডজাস্টমেন্ট চেক করুন
নতুন বাইকে চেইন একটু ঢিলা হতে পারে।
প্রথম সার্ভিস কেন গুরুত্বপূর্ণ?
প্রথম সার্ভিসে সাধারণত করা হয়:
- ইঞ্জিন অয়েল পরিবর্তন
- ফিল্টার চেক
- ব্রেক অ্যাডজাস্টমেন্ট
- চেইন টাইট করা
- নাট-বল্টু চেক
এই সার্ভিস বাদ দিলে ভবিষ্যতে ইঞ্জিনের পারফরম্যান্স কমে যেতে পারে।
ব্রেক-ইন পিরিয়ড সঠিকভাবে মানলে কি লাভ?
✔️ ইঞ্জিনের লাইফ বাড়ে
✔️ ভালো মাইলেজ পাওয়া যায়
✔️ কম ভাইব্রেশন
✔️ স্মুথ গিয়ার শিফট
✔️ দীর্ঘমেয়াদে কম মেইনটেনেন্স খরচ
ব্রেক-ইন নিয়ে প্রচলিত ভুল ধারণা
🔹 অনেকে মনে করেন নতুন বাইক ফুল স্পিডে চালালে ইঞ্জিন শক্ত হয় — এটি ভুল।
🔹 অনেকে প্রথম সার্ভিস দেরি করেন — এটি ক্ষতিকর।
🔹 কেউ কেউ মনে করেন ব্রেক-ইন দরকার নেই — আধুনিক বাইকেও এটি প্রযোজ্য।
প্রশ্ন-উত্তর (FAQ)
১. ব্রেক-ইন পিরিয়ড কত কিলোমিটার?
সাধারণত ৮০০–১০০০ কিলোমিটার।
২. ব্রেক-ইন সময় ফুল স্পিডে চালানো যাবে?
না, একদমই নয়।
৩. প্রথম সার্ভিস কখন করাবো?
৫০০–১০০০ কিমির মধ্যে, ম্যানুয়াল অনুযায়ী।
৪. ব্রেক-ইন না মানলে কি সমস্যা হবে?
ইঞ্জিনের আয়ু কমে যেতে পারে এবং মাইলেজ কম পাওয়া যেতে পারে।
উপসংহার
নতুন বাইকের ব্রেক-ইন পিরিয়ড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সময়। এই সময় সঠিক নিয়ম মেনে বাইক চালালে ভবিষ্যতে ইঞ্জিন পারফরম্যান্স, মাইলেজ ও স্থায়িত্ব অনেক ভালো থাকবে। তাই নতুন বাইক কেনার পর উত্তেজনায় ফুল স্পিডে না চালিয়ে ধীরে ও সচেতনভাবে চালান। মনে রাখবেন, প্রথম ১০০০ কিলোমিটারই আপনার বাইকের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে।





